হাওজা নিউজ এজেন্সি: আরবাঈনের জিয়ারত এক অত্যন্ত ভারী মূল্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। প্রতিটি জিয়ারতে ইমামগণ যে বাক্যগুলো বলেছেন, সেগুলো আমাদের জন্য পথনির্দেশের ফলক। যেমন, জিয়ারতে ওয়ারিস এবং এ ধরনের অন্যান্য জিয়ারতে আমাদের বলা হয়েছে—আপনারা যারা রক্ত দিয়েছেন, অবশ্যই আপনাদের প্রতিদান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে রয়েছে। কিন্তু আপনাদের রক্তের একটি জীবনদায়ী সভ্যতাগত বার্তা রয়েছে। সেই বার্তা হলো—যে দেশ ও ভূমিতে আপনারা শায়িত হয়েছেন, আপনাদের কারণে সেই ভূমি পবিত্র হয়েছে।
طِبْتُمْ وَ طَابَتِ الأرْضُ الَّتِی فِیهَا دُفِنْتُم.
এই জিয়ারত জিয়ারতকারীর জন্য, যাঁর জিয়ারত করা হচ্ছে তাঁর জন্য নয়। কারণ, যাঁর জিয়ারত করা হচ্ছে তিনি আল্লাহর সাক্ষাতে পৌঁছে গেছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরানে বলা হয়েছে, তাঁরা জীবিত—
حی عند الله مرزوق.
হযরত সানায়ীর একটি গভীর বক্তব্য রয়েছে। অনেক মানুষ মৃত্যুকে ভয় করে এবং জীবনের প্রতি আগ্রহী থাকে। কিন্তু তিনি বলেন— “এই জীবনকে ভয় করো, যে জীবনে তুমি এখন অবস্থান করছ।”

আপনি কি মনে করেন, যে ব্যক্তি শ্বাস নিচ্ছে, সে-ই জীবিত? আপনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় করি।” হ্যাঁ, মৃত্যু অবশ্যই একটি ভয়ের বিষয়। কিন্তু আপনি যে জীবন যাপন করছেন, সেটিই তো প্রকৃত জীবন নয়। তাই বলা হয়েছে— “এই জীবনকে ভয় করো, যে জীবনে তুমি এখন অবস্থান করছ।”
এই জিয়ারত জিয়ারতকারীকে এমন সাংস্কৃতিক শিক্ষা দেয়, যাতে সে বুঝতে পারে—যাঁর জিয়ারত করতে এসেছে, তিনি এমনভাবে গমন করেছেন যে তাঁর রক্ত একটি দেশকে পবিত্র করার কারণ হয়েছে।
طِبْتُمْ وَ طَابَتِ الأرْضُ الَّتِی فِیهَا دُفِنْتُم.
যে দেশ আপনাদের নিজের মধ্যে ধারণ করেছে, সেই দেশ পবিত্র। এখন যদি এমন একটি দেশে আত্মসাৎ (দুর্নীতি), দলবাজি ইত্যাদি দেখা যায়, তাহলে বোঝা যায় আমরা শহীদের শর্ত পূরণ করতে পারিনি। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ক্ষেত্রে তো বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোই আমাদের সংস্কৃতির শিক্ষা।
আমরা কেন জিয়ারত করতে যাই?
طِبْتُمْ وَ طَابَتِ الأرْضُ الَّتِی فِیهَا دُفِنْتُم.
এরপর আমরা বলি—
یا لَیتَنِی کُنْتُ مَعَکُم.
যখন এমন রক্ত একটি দেশকে সভ্য করে তুলতে পারে, তখন আমাদের আকাঙ্ক্ষা হয়—হায়! আমরাও যদি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারতাম।
আপনার কমেন্ট